জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টিকে হার মানিয়ে জুলাই উৎসবে উত্তাল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত ‘৩৬ জুলাই’ উদ্‌যাপন করতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে জমে উঠেছে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন।

আবহাওয়া অনুকূল না থাকলেও, ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থেমে থাকেনি।

সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি থাকলেও, তা উৎসবের আমেজে ছেদ ফেলতে পারেনি। কেউ ছাতা মাথায়, কেউ কাঁধে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে কিংবা ‘জুলাই সনদ’-এর ব্যাজ লাগিয়ে গান, স্লোগান আর আবেগে ভিজেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

মিরপুর থেকে আসা তরুণ আশরাফুল ইমন জানান, “এই দিনেই জনগণ স্বৈরাচারী হাসিনাকে হটিয়েছিল। আজ সেই বিজয়ের দিন। তাই আমি এসেছি গর্ব আর আনন্দ নিয়ে।”
রবিউল আলম নামে এক চাকরিজীবী তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যোগ দিয়েছেন জনস্রোতে। “আমি নিজেও ছিলাম আন্দোলনের সেই দিনটিতে। আজ আবার এসেছি, তবে পরিবার নিয়ে,”—বলছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল মঞ্চে ছিল একের পর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী এবং কলরব-এর পরিবেশনায় ছিল দেশপ্রেম, ইসলামিক সংগীত ও ঐতিহাসিক চেতনায় ভরপুর গান। কণ্ঠশিল্পী নাহিদ গেয়েছেন ‘৩৬ জুলাই’ ও ‘পলাশীর প্রান্তর’। শিল্পী তাশফি পরিবেশন করেছেন ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘তুমি প্রিয় কবিতা’সহ অনেক জনপ্রিয় গান।

উপস্থাপনায় ছিলেন পরিচিত মুখ জুলহাজ্জ জুবায়ের ও সারা আলম। বিভিন্ন ধারা ও ঘরানার শিল্পীদের অংশগ্রহণে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে ‘চিটাগাং হিপহপ হুড’, র‍্যাপার সেজান, ব্যান্ডদল শূন্য, সোলস, ওয়ারফেজ, গায়িকা এলিটা করিম, পারশা মাহজাবিন, সায়ান এবং মৌসুমি।

বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে আয়োজকরা রেখেছেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। প্লাস্টিক কভার, বিকল্প সাউন্ড সিস্টেম ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

আয়োজকদের একজন জানান, “বৃষ্টি কিছুটা চ্যালেঞ্জ, তবে মানুষের আগ্রহ এতটাই বেশি যে থামানোর  উপায় নেই। আন্দোলনের এই দিনকে সবাই নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করে এসেছে।”

বিকেলের দিকেও আসা অব্যাহত ছিল। নানা বয়সী মানুষ, বিভিন্ন পেশার অংশগ্রহণে এক ধরনের জাতীয় মিলনমেলায় পরিণত হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। তারা বলছেন, এই দিন কেবল একটি উদ্‌যাপন নয়—এটি ইতিহাসের পুনরুজ্জীবন।

মতামত দিন