উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনা: ছয় মরদেহের মধ্যে পাঁচটির পরিচয় মিলেছে ডিএনএ পরীক্ষায়।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতরভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়া ছয়টি মরদেহের মধ্যে পাঁচটির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১১ জন স্বজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা চালিয়ে এ ফলাফল নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের ডিআইজি মো. জামশের আলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া পাঁচ মরদেহের পরিচয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে জানানো হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া নিহতরা হলেন:
-
ওকিয়া ফেরদৌস নিধি
-
লামিয়া আক্তার সোনিয়া
-
আফসানা আক্তার প্রিয়া
-
রাইসা মনি
-
মারিয়াম উম্মে আফিয়া
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলোর চেহারা এতটাই বিকৃত ছিল যে, প্রাথমিকভাবে স্বজনদের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে গিয়ে ১১ জন দাবিদার—যাদের মধ্যে একাধিক সদস্য একই পরিবারের—রক্তের নমুনা দেন। এসব নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই পাঁচ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এ বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের, যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে নিহত ৩০ জন। আহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক। এর মধ্যে ঢামেক হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫৬ জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সাতজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
উদ্ধার ও শনাক্তকরণের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বিমান বাহিনীর তদন্ত কমিটি। তবে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের আগে আরও কিছু ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মতামত দিন