জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনে যুক্ত হলে চাকরি যাবে: সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন শাস্তির বিধান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি চাকরিতে থেকে সংগঠিতভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিংবা অন্য কর্মচারীদের কাজে বাধা  দেওয়া এখন থেকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এমন অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে—এমন বিধান যুক্ত হয়েছে সরকারি চাকরিবিধিতে।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক একটি গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর  স্বাক্ষরিত এই গেজেটে সংশোধিত আইন কার্যকর করা হয়।

নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, ছুটি বা যৌক্তিক কারণ ব্যতীত কাজে অনুপস্থিত থাকা, অন্য কর্মচারীদের  কাজ থেকে বিরত রাখতে উস্কানি দেওয়া কিংবা সরকারের বৈধ আদেশ অমান্য করাকে সরকারি কাজে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা যাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে।

সংশোধিত আইনের ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি আদেশ, পরিপত্র কিংবা নির্দেশ অমান্য করা বা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করলে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অসদাচরণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিম্নপদে পদায়ন, নিম্ন বেতন স্কেলে নামিয়ে আনা, বাধ্যতামূলক অবসর অথবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো শাস্তি প্রদান করা যাবে।

অভিযোগ তদন্তে গঠিত হবে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি, যেখানে একজন নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক  করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে ২০১৮ সালের আগের অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও এবার সেই সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে শাস্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলেই গণ্য হবে।

সরকার বলছে,প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমে বাধা এড়াতে এ ধরনের আইনি সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছিল।তবে নাগরিক অধিকার ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

মতামত দিন