উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সড়কে শিক্ষার্থীরা, ৬ দফা দাবিতে উত্তাল মাইলস্টোন কলেজ।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৫ শিক্ষার্থীসহ ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পরদিনই রাস্তায় নেমেছে শোকাহত সহপাঠীরা।
‘বিচার চাই না, সন্তানের লাশ চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’—এমন স্লোগান আর প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। দিয়াবাড়ী গোলচত্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল ১১টার পর থেকেই।
চোখে পানি, মুখে ক্ষোভ নিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, "শুধু বিমান বিধ্বস্ত নয়, আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, সেটাও অবিচার। কেউ দায় নিচ্ছে না, কেউ দুঃখও প্রকাশ করছে না।"
আরেকজন বলে, "আমরা সহিংস হতে চাই না, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ যেন কেউ রোধ করতে না পারে।"
এক পর্যায়ে প্রশাসনের কয়েকটি গাড়ি কলেজ চত্বর থেকে বেরোতে গেলে সেগুলো ঘিরে ফেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের কণ্ঠে তখন ‘ভুয়া ভুয়া’ ধ্বনি। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঘটনাস্থলে এলে তিনিও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তিনি কথা বলতে চাইলেও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. নিহতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ
২. আহতদের সঠিক তালিকা দেওয়া
৩. কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা
৪. নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান
৫. ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল
৬. প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে সংস্কার আনা
প্রসঙ্গত, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান দিয়াবাড়ী এলাকার মাইলস্টোন কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় এ দুর্ঘটনায় আগুন ধরে যায় পুরো বিমানে।
আইএসপিআরের তথ্য মতে, এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির এবং শিক্ষিকা রুমানা হকসহ মোট ২৭ জন নিহত হন। এদের মধ্যে ২৫ জনই ছিলেন কলেজের শিশু শিক্ষার্থী।
উত্তরার আকাশে এখন শুধু ধোঁয়া নয়, লাশের গন্ধ আর বেঁচে থাকা সহপাঠীদের বুকভাঙা কান্না—বিচার না চাইলেও তারা জানতে চায়, "দায়টা নেবে কে?"

মতামত দিন