নন্দিত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হলেও লেখালেখি ও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি আকর্ষণ তাকে সৃজনশীল জগতে নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বন্দি হন তিনি। শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’। হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘গল্প’, ‘কবি’, ‘লীলা বতী’, ‘গৌরীপুর জংশন’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ ইত্যাদি। তাঁর রচিত কালজয়ী চরিত্র হিমু, মিসির আলী, শুভ্র প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আজও জনপ্রিয়।
টিভি নাট্যকার হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৮০-এর দশকে প্রচারিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকদের মন জয় করেন। এছাড়া ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এবং ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ সিনেমায় তার পরিচালনায় স্বতন্ত্র স্থান অর্জিত হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদের অসাধারণ সাহিত্যকীর্তি বাংলাদেশের এক অনন্য সম্পদ। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), এবং বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) অর্জন করেন।
মতামত দিন