পটুয়াখালীতে ‘মুরগির ঘরে’ দিনযাপন করা লালবড়ু বেগম আর নেই।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া লালবড়ু বেগম বিগত কয়েক বছর ধরে চরম দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে ছিলেন। ঘরবাড়াহীন এই বৃদ্ধা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতেন একটি পুরোনো মুরগির খোপে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানকে মানুষ করতে লালবড়ু বেগম লড়েছেন কঠিন সময়ের সঙ্গে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের সংসারেই যেন হারিয়ে যান তিনি।
নাতজামাই আরিফ জানান, "দাদি খুব কষ্ট করে বেঁচে ছিলেন। অসুস্থতার পর আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে হাসপাতালে নিতে, কিন্তু তার আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।"
বৃদ্ধার সেবায় নিয়োজিত বৌমা রিনা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, নিজেরাই কোনো রকমে থাকি। তারপরও শাশুড়িকে যতটুকু পারি দেখাশোনা করেছি। কিন্তু তার চলাফেরা করার শক্তি ছিল না।সব কিছুই করে দিতে হতো।”
লালবড়ু বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাগরিবের নামাজের পর পটুয়াখালী সদর বড় মসজিদে জানাজা শেষে মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এই বৃদ্ধার জীবন কাহিনি সমাজের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে—যেখানে বয়সের ভারে অসহায় হয়ে পড়া একজন মা হয়তো সন্তানদের কাছেই উপেক্ষিত হয়ে যান।

মতামত দিন