জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সেবার বাস্তব চিত্র, জনভোগান্তি ও রোগী-স্বজনদের অভিমত।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল দেশের হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা এখানে জীবনের শেষ ভরসা নিয়ে আসেন উন্নত চিকিৎসার আশায়।
রোগীরা যেমন শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগেন, তেমনি তাদের স্বজনরাও মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করেন এই সময়। অথচ, এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি হাসপাতালেও রোগী ও স্বজনদের প্রতি মানবিক ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।

হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের দুর্ব্যবহার রোগী ও স্বজনদের জন্য একটি বড় ধরনের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 'নিরাপত্তা' বজায় রাখার অজুহাতে অনেক সময় রোগীর স্বজনদের সাথে রূঢ় ভাষায় কথা বলা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাধা প্রদান, এমনকি প্রয়োজনীয় তথ্য জানার চেষ্টা করলেও অপমানজনক আচরণ করার অভিযোগ সাধারণ। কেউ কেউ জানান, দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসে হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথচ রোগীর অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না।

রোগীর স্বজনদের কিছু মতামত তুলে ধরা হলো:

"আমার বাবা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু আমাদের কাউকে ওয়ার্ডে ঢুকতে দেয়নি। কী অবস্থা, চিকিৎসক কখন আসছেন — কোনো তথ্যই জানানো হয়নি। বাইরে দাড়িয়ে শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার ছিল না," — বলেন এক রোগীর কন্যা।

"রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা এমন ব্যবহার করে যেন আমরা অপরাধী। অথচ আমরা তো শুধু ভালোবাসার মানুষটার খোঁজ নিতে এসেছি," — মন্তব্য করেন এক রোগীর ভাই।

"আমরা গ্রাম থেকে এসেছি। টাকা-পয়সার অভাব, থাকার জায়গা নাই। এর মাঝে যদি একটু ভালো ব্যবহার পেতাম, মনটা শক্ত হতো," — বলেন এক বৃদ্ধ রোগীর ছেলে।

অন্যদিকে, সাধারণ রোগীরাও হাসপাতালের ভেতরের তথ্য সংকট ও অসংবেদনশীল ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতালে সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

"আমি হৃদরোগের চেকআপ করতে আসি। কিন্তু কোথায় যেতে হবে, কার কাছে রিপোর্ট দিতে হবে — কেউ ঠিক করে বলে না," — বলেন এক মধ্যবয়সী রোগী।

এই প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে আচরণে মানবিকতা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেন। পাশাপাশি, রোগীর তথ্য জানার জন্য একটি সংগঠিত হেল্প ডেস্ক বা ‘পেশেন্ট ইনফরমেশন সাপোর্ট সেল’ চালু করা যেতে পারে, যেখানে স্বজনরা শালীন ও সম্মানজনক উপায়ে তথ্য জানতে পারবেন।

মতামত দিন