জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

মিটফোর্ড এলাকায় নৃশংস হত্যার শিকার সোহাগের মেয়ে চায় বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় চাঁদাবাজদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন ব্যবসায়ী মো. সোহাগ (৫৫)। এ ঘটনায় শোকাহত তার স্ত্রী ও সন্তানরা দ্রুত বিচার দাবিতে আহাজারি করছেন।
নিহতের মেয়ে সোহানা বলেন, “আমার বাবা কোনো অপরাধ করেনি। শুধু চাঁদা দিতে রাজি হয়নি বলেই ওরা তাকে মেরে ফেলেছে। এখন আমরা কোথায় যাব?”

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে তার মরদেহ ঢাকা থেকে নিজ জেলা বরগুনায় নেওয়া হয়। পরে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুকালে বজ্রপাতে বাবাকে হারান সোহাগ। এরপর মা আলেয়া বেগমের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। বহু কষ্টে মিটফোর্ড এলাকায় ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামে একটি ছোট দোকান গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই চলছিল তার সংসার। কেরানীগঞ্জে স্ত্রী লাকি বেগম ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় একদল চাঁদাবাজ তার দোকান থেকে মাসে দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে দোকান তালাবদ্ধ করে দেয় তারা। এরপর বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নির্মমভাবে পেটানো হয় এবং মাথায় পাথর মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম বলেন, “ওরা আমার স্বামীর ব্যবসা দখল করতে চেয়েছিল। বহুবার হুমকি দিয়েছে। প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও কিছু পাইনি। শেষ পর্যন্ত ওকে মেরে ফেলল।”

নিহতের বোন ফাতেমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভাইয়ের মতো নিরীহ মানুষকে ওরা কীভাবে এমনভাবে মারতে পারল? আমরা বিচার চাই, দ্রুত বিচার।”

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিবার বলছে, অভিযুক্তদের পরিচয় জানে তারা এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মতামত দিন