‘স্যার’ সম্বোধনের যুগের অবসান, সমতা প্রতিষ্ঠায় নতুন দৃষ্টান্ত।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে—সরকারি বিসিএস কর্মকর্তাদের “স্যার” বা উচ্চপদস্থ মহিলা কর্মকর্তাদের “স্যার” বলে সম্বোধনের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে এটি একটি প্রচলিত আচার হিসেবে দেখা যায়, যা জনগণের মধ্যে অসাম্য সৃষ্টি করত।
শেখ হাসিনার প্রশাসনে সরকারি কর্মকর্তাদের “স্যার” করে সম্বোধন করা একটি আনুষ্ঠানিক শিষ্টাচার হয়ে উঠেছিল, যেখানে এই শব্দটি শুধু শিক্ষার মাপকাঠিতে নয়, সামাজিক মর্যাদার একটি প্রতিনিধিত্ব হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এই নিয়ম শুধু পুরুষ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং উচ্চপদস্থ মহিলা কর্মকর্তারাও “স্যার” শব্দের আওতায় সম্বোধিত হত। সরকারি কাজের ক্ষেত্রে শাসক–নাগরিক পার্থক্য আরো বৃদ্ধি পায়, যা বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে চিহ্নিত হয় "সাম্য ও ভিন্ন চিন্তার অধিকার" আদর্শের দিকে।
অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে “স্যার” সম্বোধন করা যাবে না। এরপরের নীতিমালা অনুসারে, সামাজিক ও প্রশাসনিক সমমর্যাদা বজায় রেখে শুধুমাত্র “মহোদয়”, “জনাব”, “জনাবা”, বা “অফিসার” ইত্যাদি সংবেদনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্ভাষণের মাধ্যমেই কাজ চালানো হবে।
এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন– এটি অফিস-সুযোগে সমতা প্রতিষ্ঠার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা বলছেন, নিয়ম বদলে গেলে আচরণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও গুরুত্ব পাবে, যাতে গণতন্ত্রের সংস্কৃতিকে মিশ্রিত করে নৈতিক ও সংবিধানিক ভিত্তি সংরক্ষিত হয়।
মতামত দিন