যশোর মেডিকেল কলেজের সকল কার্যক্রম স্থগিত।
রাজনৈতিক টানাপড়েনে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যশোর মেডিকেল কলেজে শুরু হয়েছে এক ধরনের ‘রাজনৈতিক পালাবদল’। দীর্ঘদিন ধরে যমেকে একচেটিয়া দখলে ছিল ছাত্রলীগ ও তাদের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের, যারা আওয়ামী লীগপন্থি পরিচয়ে সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
এখন ওই পুরনো মুখেরাই বিএনপিপন্থি ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব)’ ও ছাত্রদলের আশ্রয়ে নতুন বলয় গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতারাও ভোল পাল্টে ভিড় করছেন বিরোধী ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। এ অবস্থায় দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের সেবামূলক সংগঠন সন্ধানী। পৃথক দুই কমিটি গঠনের ফলে মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় বাড়ছে উত্তেজনা।
অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা
অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন এবং উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় আমরা সন্ধানীসহ সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করেছি। যমেকে একাডেমিক পরিবেশ সুরক্ষায় এটি জরুরি সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কোনো রাজনৈতিক বলয়ে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যশোর মেডিকেল কলেজে সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী মনে করছেন, রাজনৈতিক বলয়ে বিভক্তি এবং শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের অবনতি শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া স্থিতিশীলতা আসবে না।
সাময়িকভাবে স্থগিত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ধানী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, সমাজসেবা ও বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পরবর্তী নির্দেশে এগুলো পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

মতামত দিন