মেট্রোরেল প্রকল্পে অঙ্কের যুদ্ধে জয় অন্তর্বর্তী সরকারের।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারুবিনি করপোরেশন ও লারসন অ্যান্ড টুবরো প্রথমে ৬৫১ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়। দীর্ঘ দরপত্র আলোচনার পর তারা সর্বশেষ ৪৬৫ কোটি টাকায় কাজটি করতে রাজি হয়েছে, যা প্রস্তাবিত দামের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ কম।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক বিবেচনায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। “আমরা দ্রুত মেট্রোরেল চালু করতে চাই, কিন্তু ব্যয় নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।
জানা যায়, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে আরও সময় লাগবে, কারণ নতুন করে বিদ্যুৎ ও সিগন্যালিং অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।
উল্লেখ্য, আগের সরকার ২০২২ সালে এই সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয়। ২০২৩ সালে উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার সময় ছিল ২০২৪ সালের জুন, তবে ধীরগতির কারণে সময় বাড়িয়ে ডিসেম্বর করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তখন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নতুন দরপত্রে অংশ নিতে বলা হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে চুক্তি চূড়ান্তের পথে।
ডিএমটিসিএলের একটি সূত্র জানায়, দরপত্র কমানোর প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে টানা কয়েক মাস আলোচনা হয়েছে, যেখানে দরপ্রস্তাব একাধিকবার হ্রাস করা হয়। মূলত অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে নতুন আলোচনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
এই মুহূর্তে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার মেট্রোরেল চালু আছে। এর সঙ্গে কমলাপুর পর্যন্ত সংযোগ হলে রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত রেলস্টেশনটি আধুনিক গণপরিবহনের আওতায় চলে আসবে।
মতামত দিন