জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

কর্মস্থলে অনুপস্থিত ১৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পুলিশ বাহিনীর একটি অংশে দায়িত্বহীনতা ও অনুপস্থিতির ঘটনা বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ১৩ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

রোববার (২৯ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক ১৩টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এসব প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন করে অনুপস্থিত থাকায় ‘পলায়নের অপরাধে’ অভিযুক্ত হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুলিশ সুপার (এসপি), আটজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) এবং দুইজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।

অনুপস্থিতির প্যাটার্ন

অনেকেই পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন, কেউবা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আর ফেরেননি। একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদেশে অবস্থান এবং পুনরায় যোগদানের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা (এস এম জাহাঙ্গীর হাছান) চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড ও পরে সিঙ্গাপুরে গেলেও, দীর্ঘদিন ধরে ফিরে না আসায় সরকারি ডাক ও নোটিশও উপেক্ষা করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখযোগ্য নাম

বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন এটিইউ, র‍্যাব, ডিএমপি, এপিবিএন, জেলা পুলিশ এবং ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ছানোয়ার হোসেন, শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, ইফতেখায়রুল ইসলাম ও মিশু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

সরকারের অবস্থান

প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, এসব অনুপস্থিতি শুধুই শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং তা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কর্মকর্তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন এবং সরকারি কর্মচারি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই পুলিশ বাহিনীর কিছু অংশে  নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। অনেকেই আতঙ্ক, অনাস্থা কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের  জেরে দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে সরে যান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরও তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন