নিঃস্বার্থ মানবিকতার প্রতীক কবর খননকারী মনু মিয়ার শেষ বিদায়।
মনু মিয়ার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মানুষের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে যিনি ছিলেন অবিচল সঙ্গী, তিনিই আজ চিরবিদায় নিলেন নীরবে। দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষের জন্য। জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে কখনো কাউকে থেকে কিছু নেননি—এমনকি একটি ঘোড়া কিনতেও নিজ দোকান বিক্রি করেছিলেন, শুধু যেন সহজে মৃতের বাড়িতে পৌঁছাতে পারেন।
ঢাকার আইনজীবী ও স্থানীয় সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ রোকন রেজা জানান,কিছুদিন আগে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মনু মিয়া। তখন দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে মেরে ফেলে। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও বলেছিলেন, “আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করতে। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।”
প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, “ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এলেও আর আগের মতো হতে পারেননি। আমরা একজন নিঃস্বার্থ, মানবিক মানুষকে হারালাম, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।”
স্থানীয়দের ভাষায়, মনু মিয়া শুধু একজন কবর খননকারী ছিলেন না—তিনি ছিলেন নিরব মানবসেবার প্রতীক। মৃত্যুর পরও মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ার মাঝে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।
মতামত দিন