বিশ্ব শান্তি সূচকে ৩৩ ধাপ পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ।
আইইপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি সূচকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২.৩১৮। ২০২৩ সালে দেশটি ৯৩তম অবস্থানে থাকলেও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও নাগরিক অধিকার হরণের ফলে এবার বড় পতন ঘটেছে।
বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও বিরোধী পক্ষ, ছাত্র আন্দোলন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র সংঘাত সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনপীড়ন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের মাধ্যমে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া ও মব লিঞ্চিংয়ের মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, এসব সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।
বিশ্বব্যাপী শান্তির মানচিত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় অবনতির উদাহরণ হলেও পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া, মিয়ানমার ও কঙ্গো। ইরান-ইসরায়েল ও ইউক্রেন যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এসব দেশের রেটিংয়ের পতনের প্রধান কারণ।
এদিকে গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৫-এ সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আইসল্যান্ড, এর পরে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে, তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে আফগানিস্তান, ইয়েমেন, দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো ও সুদান।
আইইপির ভাষ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে বিশ্ব ক্রমেই কম শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই শান্তির সবচেয়ে বড় অবনতি। গত ১৭ বছরে গড় শান্তি সূচকে ৫.৪ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে, যা অস্থিতিশীলতার গভীর সংকেত বহন করে।

মতামত দিন