কীর্তিনাশা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় নির্মাণাধীন সেতু ধস।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা সেতুর নির্মাণকাজ চলমান। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে ফেলা হয়। চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ট্রলার চালু করা হলেও পথচারীদের সুবিধার জন্য একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু প্রথম ধাপে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি অংশ ভেঙে পড়ার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল।
সোমবার সকালে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেড নদী পার হচ্ছিল। এ সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর এক পিলারে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গেই সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সেটি বাল্কহেডের ওপর পড়লে কিছুদূর গড়িয়ে গিয়ে উভয়ই নদীতে ডুবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শিহাব হুসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই সেতুর কাজ ঝুলে আছে। নদী পার হতে আমাদের প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর এমন দুর্ঘটনা তো আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। আমরা চাই, দ্রুত এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সেতুর কাজ চলমান থাকায় নৌযান চলাচলে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফুট ওভার ব্রিজের গার্ডারসহ একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ অক্টোবর একই সেতুর আরেকটি অংশ বাল্কহেডের ধাক্কায় ধসে পড়েছিল।এটি সেতুর তৃতীয়বারের মতো ধস। এর আগে ২০১৫ সালে সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। তখন স্থানীয়রা এলজিইডির সহায়তায় একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। ২০১৮ সালের ১৯ জুন একটি বাল্কহেড ওভারলোডের কারণে সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এর ফলে শরীয়তপুর-শিবচর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এটি ছিল সেতুর চতুর্থবারের মতো ধস।
সেতুর নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রিতা ও বারবারের দুর্ঘটনা স্থানীয়দের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত দিন