জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানির নিচে খুলনার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খুলনায় এক রাতের বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে শহরের অধিকাংশ এলাকা। সোমবার (১৬ জুন) রাত থেকে মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত টানা ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে শহরের বহু সড়ক ও বসতবাড়ি পানির নিচে চলে যায়।
শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় চরম জলাবদ্ধতা।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যা বৃষ্টি হয়েছে, তা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষজন।

বিপর্যস্ত যোগাযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান:

টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, সাত রাস্তা মোড়, নিউ মার্কেট এলাকা, ফুলবাড়িগেট, মুজগুন্নি, দৌলতপুরসহ অন্তত এক ডজন এলাকার সড়কে পানি উঠে যায়। অনেক জায়গায় দোকানপাট ও ঘরবাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে। যানবাহন আটকে পড়ায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজট।

নগরবাসীর ক্ষোভ: “ড্রেন বানালেই তো হবে না, পরিষ্কারও করতে হয়”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও খাড়ি দখল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি। নতুন ড্রেন নির্মাণ করলেও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় তা অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

টুটপাড়ার বাসিন্দা ফাতিন আব্দুল্লাহ বলেন, “সড়কের পাশে ড্রেন বানানো হয়েছে, কিন্তু তা বাড়ির থেকে উঁচুতে। ফলে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়লেও বাইরে নামতে পারে না।”

মির্জাপুর এলাকার মিথিলা মজুমদার বলেন, “বাড়ির সামনে পানি জমে থাকায় হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। এমনকি কোনো গাড়িও ঢুকতে পারছে না।”

খুলনা সিটি করপোরেনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন:

নগরবাসী বলছেন, একদিকে কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ, অন্যদিকে নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পুরো প্রকল্পই প্রশ্নবিদ্ধ। শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনা সিটি করপোরেশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অর্থাৎ, স্বল্পসময়ের বৃষ্টিতেই খুলনা শহর এখন এক গভীর নাগরিক সংকটের মুখে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার মাশুল গুনছে সাধারণ মানুষ।

মতামত দিন