সিলেটে বন্যায় ঈদ উৎসব ম্লান, ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি।
জেলার জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট ও বালাগঞ্জসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় একাধিক স্থানে ডাইক ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এসব এলাকায় আতঙ্ক আর দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সরকারি উদ্যোগ ও ত্রাণ সহায়তা
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৮২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪৩২ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য চাল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ মোকাবেলায় মজুদকৃত ভাণ্ডার থেকে এখন পর্যন্ত ৭০০ বস্তা শুকনো খাবার, ৩২০ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও সমপরিমাণ গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চার উপজেলায় ইতোমধ্যে ৬৩ টন চাল, ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও ১৯৪ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
নদীর পানি পরিস্থিতি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে ৪৪ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জে ৭৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে কিছুটা পানি কমেছে।
ঈদের আনন্দ নিঃশেষ
বন্যার প্রভাবে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেননি বহু পরিবার। কোরবানির পশু কেনার তো সুযোগই হয়নি অনেকের। অনেক ঘরে এখনও পানি জমে আছে, কোথাও আবার ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। রান্নাবান্না,ঈদ জামাত—সবকিছুই থেমে গেছে পানির চাপে।
জকিগঞ্জের রারাইগ্রামের বিধবা রহিমা বেগম বলেন, “স্বামী মারা গেছেন আগেই, চার সন্তান নিয়ে চলি কষ্টে। বন্যায় ঘর-বসতভিটা সব শেষ। ঈদ আমাদের আর নেই।”
একই গ্রামের আমিন মিয়া বলেন, “আমরা এমনিতেই গরিব। ঈদ তো এমনিই ছিল না, কিন্তু বন্যা আমাদের সব শেষ করে দিল।”
বিভিন্ন হাট-বাজারেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। পশুর হাট ও কাপড়ের দোকানগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা, যেখানে অন্যান্য বছর ঈদের আগের সপ্তাহেই জমজমাট বেচাকেনা চলতো।
প্রশাসনের আশ্বাস
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান,বন্যা কবলিত এলাকায় দু’দফা ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে ঈদের জন্য আলাদাভাবে কোনো বরাদ্দ নেই। ঈদের দিন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ বলেন, “সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু এলাকায় প্লাবন ঘটেছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই, প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

মতামত দিন