ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ।
সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা সেতু থেকে করটিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে গতি হারিয়েছে যানবাহন। কোথাও থেমে আছে, কোথাও চলছে ধীরগতিতে। একই অবস্থা মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত, যেখানে প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির সারি।
বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে মহাসড়কে। সড়কের বিভিন্ন অংশে গাড়ির তীব্র চাপ, মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং যানবাহনের অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার কারণে এই যানজট লাগামছাড়া হয়ে ওঠে।
এর আগে বুধবার ভোর ৪টা থেকে আশেকপুর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অন্তত ২২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, যা পুরো দিন এবং রাতজুড়ে অব্যাহত থাকে। এতে পরদিন শুক্রবার সকাল নাগাদ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৬৪ হাজার ২৮৩টি। এর মধ্যে ৪৩ হাজার ৩টি যান উত্তরবঙ্গমুখী এবং ২১ হাজার ২৮০টি যান ঢাকাগামী ছিল। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গন্তব্যে পৌঁছাতে ২ ঘণ্টার পথ ৮ ঘণ্টায় লাগছে। শিশুসহ পরিবার নিয়ে এমন ভোগান্তি খুবই কষ্টদায়ক।” আর চালকরা বলছেন, “যাত্রাপথে বিশ্রামের জায়গার অভাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত গাড়ির চাপই মূল কারণ।”
যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও বাস্তবতা বলছে, ঈদের আগে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে ভ্রমণ যেন ধৈর্যের চরম পরীক্ষা।
মতামত দিন