শেষ মুহূর্তে পশুর হাটে ভিড়, পছন্দের গরু না পেয়ে হতাশ ক্রেতারা।
বিক্রেতারা বলছেন, এবার ভারতীয় গরু না আসায় দেশি ছোট ও মাঝারি গরুর ওপর চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে শেষ সময়ে সাশ্রয়ী দামে গরু কিনতে ক্রেতারা হাটে ভিড় করায় সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
জুরাইন কলেজরোডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, “বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় জুরাইন হাটে গিয়েছিলাম, কিন্তু ভালো গরু তো দূরের কথা, গরুই ছিল না হাতে গোনা। দয়াগঞ্জ, শনির আখড়ায় গিয়েও পাইনি। শেষ পর্যন্ত সাইনবোর্ড হাট থেকে কষ্ট করে একটা গরু কিনে ফিরেছি।”
কমলাপুর হাটে শুক্রবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, পশু রাখার বাঁশের ঘরগুলো ফাঁকা। হাতে গোনা কয়েকটি গরু নিয়ে বিক্রেতারা দরদাম করছেন। কেউ দাম বেশি চাচ্ছেন, কেউ আবার নিরাশ হয়ে চলে যাচ্ছেন। এক ক্রেতা বলেন, “যতটুকু পশু আছে, তাও আবার চড়া দামে। ব্যাপারীদের কানে যেন কেউ কথা ঢোকাতে পারছে না।”
অন্যদিকে, ফরিদপুরের ভাঙা থেকে আসা ব্যবসায়ী আলদু মিয়া জানান, “মঙ্গলবার ২২টা গরু এনেছিলাম, আল্লাহর রহমতে ২০টা বিক্রি হয়ে গেছে।বাকি ২টা নিয়েই এখন বসে আছি।হাটে ক্রেতা প্রচুর, কিন্তু গরু হাতে গোনা।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী,এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া প্রায় ৭৭ লাখ। শুধু ঢাকা বিভাগেই রয়েছে প্রায় নয় লাখ কোরবানিযোগ্য পশু।
তবে বাস্তবে হাটে এসে ক্রেতারা যে সংকটে পড়েছেন, তা হাট ব্যবস্থাপনা ও সময় মতো পশু সরবরাহের ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,শেষ সময়ের চাহিদা এবং ভারতীয় পশুর অনুপস্থিতিতে এবার দেশি খামারিরা ভালো দাম পেয়েছেন, তবে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা।
মতামত দিন