জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ঘুমের ঘরেই চারজনের মৃত্যু: গোলাপগঞ্জে টিলা ধসে নিঃশেষ এক পরিবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের গোলাপগঞ্জে গভীর রাতে হঠাৎ টিলা ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের চারজন। রাতভর বৃষ্টির মধ্যে টিলা থেকে মাটি, গাছ ও টিনের চাল ধসে পড়লে এক মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে যায় লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট গ্রাম।

রোববার (১ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন ,রহিমা বেগম, মেয়ে সামিয়া খাতুন (১৫) ও ছেলে আব্বাস উদ্দিন (১৩)।

ঘটনার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তারা। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, পরিবারের চারজন সদস্য আর বেঁচে নেই।

নিহত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে হোসেন আলী পেশায় একজন ট্রাকচালক। দুর্ঘটনার সময় তিনি ছিলেন হবিগঞ্জে, মাল ডেলিভারির কাজে। রাত দুইটার দিকে মোবাইলে পরিবারের ওপর টিলা ধসে পড়ার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাড়িতে। সকালে ফিরে দেখেন, একে একে মাটিচাপা থেকে তোলা হচ্ছে মা, ভাই-বোন ও বাবার নিথর দেহ।

হোসেন আলী বলেন, “৩৫ বছর ধরে আমরা এই টিলার পাশেই আছি। কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু এমন কিছু হবে ভাবিনি। আগে উপরে ছিলাম, তখন কিছু হয়নি। এখন নিচে ঘর করায় এই বিপদ। চোখের সামনে চারজনকে হারালাম।”

ঘটনার সময় বাড়ির দুই রুমে পরিবারটি বিভক্ত ছিল। একটি রুমে ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে।আরেক রুমে ছিলেন অন্য স্ত্রী ও সন্তানরা।প্রবল বর্ষণে টিলা ধসে প্রথম রুমটি চাপা পড়ে, প্রাণ হারান চারজন।

চাচি ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ভাসুর রিয়াজ দিনমজুর ছিলেন। মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এর মধ্যে এমন দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, কল্পনাও করিনি। চারজনকে একসঙ্গে দাফন করতে হলো। মন মানতে চায় না।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মাটি ধসতে থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দেখেছি, পরিবারটির ছয় সদস্যের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। বেঁচে যাওয়া দুজন শারীরিকভাবে ঠিক থাকলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সরকার দাফনের যাবতীয় খরচ বহন করেছে।”

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যেই মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ টিলার পাদদেশে থাকলে প্রশাসন নিজ উদ্যোগেই তাদের সরিয়ে নেবে।

মতামত দিন