জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি, আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে বাসিন্দারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ শুক্রবার,৩০ মে ২০২৫:

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী স্লুইসগেট সংলগ্ন নির্মাণাধীন বাঁধ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাঁদপুর, কেয়ামূল্যাহ, কাঞ্চনপুর, গুরিন্দা, চাঁচড়া ও কাটাখালীসহ দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়।

বাঁধ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই প্রচণ্ড স্রোতের পানি প্রবেশ করে শত শত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং রাস্তাঘাট  নিমিষেই প্লাবিত হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে স্লুইসগেট নির্মাণে গাফিলতি এবং সময়ক্ষেপণের কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর প্রবল স্রোতে স্লুইসগেটের মুখে থাকা ছয়টি ঘর ভেঙে গেছে। আতঙ্কে বহু  পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। চর মুজাম্মেলসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্লুইসগেট নির্মাণে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত মাটি স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও ঠিকাদারের যোগসাজশে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হতো।

ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভ দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ দৌলা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওরোল, ব্লক ও মাটি ফেলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাজ চলবে।

বাঁধ ভাঙনের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মতামত দিন