গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে জলাবদ্ধতা, ঘরবাড়ি-ট্রলার বিধ্বস্ত।
আজ শুক্রবার,৩০ মে ২০২৫:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে টানা ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে। এতে দ্বীপজুড়ে দেখা দিয়েছে জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের গলাচিপা,কোনাপাড়া ও দক্ষিণপাড়া এলাকাগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ফুট উঁচু জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বহু ঘরবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, “রাতের দিকে বাতাস কিছুটা কমলেও এখনো পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হোটেল-মোটেল ছাড়াও বিএন স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জমির বলেন, “সাগরে পানি বাড়ার ফলে কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। তীব্র জোয়ারের আঘাতে চারপাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনো বহু ঘরবাড়ি পানিবন্দি অবস্থায় আছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান,“জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে এবং কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার ভেঙে পড়েছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। জনপ্রতিনিধিরা মাঠে আছেন। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে।”
চার দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে সব ধরনের ট্রলার ও জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাপ্লাই ট্রলারগুলো যেতেও পারেনি। এতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আবহাওয়া উন্নতির দিকে যাচ্ছে, আমরা আশা করছি দ্রুত ত্রাণ ও পণ্যবাহী ট্রলার পৌঁছাতে পারবে।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপবাসী এক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছে। এখন প্রশাসনের নজর রয়েছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দিকে।
মতামত দিন