পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ, তবু মোবাইল রিচার্জে এখনো কাটছে অতিরিক্ত টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:
দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯ কোটির ঘর। ভয়েস কল, ইন্টারনেট কিংবা অন্য যেকোনো মোবাইল সেবা গ্রহণের আগে তারা প্রতিনিয়ত রিচার্জ করে থাকেন।
২০১৬ সালের মার্চে এই ‘সারচার্জ’ আদায় শুরুর সময় বলা হয়েছিল, পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয় আংশিক পূরণের লক্ষ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ১০০ টাকার রিচার্জে ১ টাকা সংগ্রহ করা হবে। এরপর ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বন্ধ হয়নি এই সারচার্জ আদায়।
টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলেও গ্রাহকের কাঁধে থাকা এই কর এখনো বহাল রাখা হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।মোবাইল অপারেটররা বলছে,সরকার চাইলেই এবার এই অতিরিক্ত চাপ তুলে নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, “পদ্মা সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে, অথচ এখনো এক শতাংশ সারচার্জ নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, এবারের বাজেটে এই সারচার্জ প্রত্যাহার করা উচিত।”
অবশ্য সরকার সরাসরি এই সারচার্জ বন্ধের কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি এ বিষয়ে নতুন করে ভাবছে। যদিও এখনই এই খাতে কোনো প্রকার ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়—এর আগেও দেশের বৃহৎ অবকাঠামো যমুনা সেতু নির্মাণে অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়েছিল বাস, ট্রেন ও সিনেমার টিকিটের উপর।তবে প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর তা তুলে নেওয়া হয়।তাই পদ্মা সেতু নিয়ে একই প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকেও—‘সেতু শেষ, কিন্তু কর এখনো কিসের?’
সরকারি হিসাব বলছে, ২০১৬ সাল থেকে চলমান এই সারচার্জ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—কবে বন্ধ হবে এই ‘অবসানহীন’ কর?
মতামত দিন