জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস পরীক্ষায় নতুন সিলেবাস, বদল এসেছে ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার সিলেবাসে আংশিক সংশোধন এনেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলায় যে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানেই প্রথমবার এই সংশোধিত সিলেবাস প্রয়োগ হবে।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ মে) নতুন সিলেবাস জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। সংশোধিত সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ভাগে এবং বিষয়বস্তুর বিন্যাসে আনা হয়েছে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন।

পরীক্ষার কাঠামো:

নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে থাকবে ২০ নম্বর করে এবং গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা—এই দুটি বিষয়ে থাকবে ১০ নম্বর করে প্রশ্ন।

স্বাস্থ্য ক্যাডারভুক্তদের জন্য থাকছে আলাদা মূল্যায়ন। মেডিকেল সায়েন্সের প্রশ্ন দুটি ভাগে বিভক্ত: প্রি ও প্যারা ক্লিনিক্যাল (৫০ নম্বর) এবং ক্লিনিক্যাল (৫০ নম্বর)। ডেন্টাল সায়েন্সের পরীক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে পৃথক প্রশ্নপত্র—একটিতে অ্যানাটমি ও ডেন্টাল অ্যানাটমি, অন্যটিতে ওরাল সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া; উভয় ক্ষেত্রেই ৫০ নম্বর করে।

পরিবর্তনের প্রধান দিক:

সিলেবাস বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলা, ইংরেজি ও যুক্তির বিষয়গুলোতে পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন ও সংযোজন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১৯৭১-পূর্ব সময়ের গণআন্দোলন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনা। কিছু বিতর্কিত এলাকা বাদ পড়েছে, যেমন স্বাধীনতার ঘোষণার অনুপুঙ্খ ব্যাখ্যা কিংবা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের তুলনামূলক আলোচনা।

আন্তর্জাতিক বিষয়ে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসনিক কাঠামো—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন ও জাপানের সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থাপনা। এতে বিসিএস পরীক্ষার্থীরা বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থান অনুধাবনে সক্ষম হবে বলে মনে করছে পিএসসি।

পিএসসির এক সিনিয়র সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা সিলেবাসে না থাকলে সেটা হতো অস্বাভাবিক। ভবিষ্যতের বিসিএসেও এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।”

দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্নের লক্ষ্য:

বিশেষ বিসিএস পরীক্ষাগুলো সাধারণত দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়। পিএসসি পরিকল্পনা করছে, জুন মাসেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে। এজন্য রোডম্যাপও তৈরি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পিএসসি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে—নভেম্বরে আসতে পারে ৪৯তম বিসিএস, যেখানে নতুন, আরও বিস্তৃত সিলেবাস কার্যকর হতে পারে।সেই প্রস্তুতিরই এক ধাপ হিসেবে এই বিশেষ বিসিএসের সিলেবাস আংশিক পরিবর্তিত করা হয়েছে

মতামত দিন