অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে বিদেশ যেতে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করে হত্যার ঘটনায় স্বামী আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে আহাদ শেখের সঙ্গে ২০১৪ সালে একই উপজেলার কাগদী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে রুবাইয়া বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।

কিছুদিন পর বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন আহাদ। এ জন্য তিনি স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। পরে রুবাইয়া তার বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনে স্বামীকে দিলেও বাকি টাকার জন্য তার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন আহাদ।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১ আগস্ট রুবাইয়াকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত রুবাইয়ার মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে সালথা থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন।

মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের রায়ের মাধ্যমে সমাজে যৌতুকের মতো অপরাধ কমবে।

মতামত দিন