নিখোঁজের তিন সপ্তাহ পর ড্রেন থেকে কোরআনে হাফেজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় নিখোঁজ থাকার ২৪ দিন পর এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বড়ইতলা এলাকার একটি কারখানাসংলগ্ন ড্রেন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কিশোরের নাম আব্দুল্লাহ। বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। সে পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের সেকান্দরদী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার হোসেনের সন্তান এবং স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার জানায়, গত ২২ নভেম্বর মাদ্রাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে বড়ইতলা এলাকায় একটি ড্রেন থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পোশাক কারখানার ইটিপি প্লান্টসংলগ্ন ড্রেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হলে স্বজনরা সেখানে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ওই এলাকায় সীমিতসংখ্যক ড্রেন থাকায় পরিকল্পিতভাবেই মরদেহ সেখানে ফেলা হয়েছে। তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুল্লাহর বাবা মুক্তার হোসেন বলেন, তার ছেলে কোরআনের ২৭ পারা মুখস্থ করেছিল এবং চলতি মাসেই হাফেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মতামত দিন