অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলা,প্রাণ গেল ইমন দাশের।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামে মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন যুবক ইমন দাশ। ছুরিকাঘাত ও চাপাতির কোপে গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, চান্দগাঁও থানার মোহরা ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন ইমন। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বেচাকেনা চলে আসছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের দাবি, হানিফ নামে একজনের নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকাজুড়ে মাদকের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ নভেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকার মরিয়ম ক্লাবের পাশের একটি স্থানে ইমন দাশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইমনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউ সংকটের কারণে তাকে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা চিকিৎসার পর আবার চমেকে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহত ইমন দাশ কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। অল্পদিন আগেই বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন ইমন। তার গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নে।

হামলার ঘটনায় নিহতের বাবা সাগর দাশ বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এজাহারে বলা হয়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ইমনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলায় চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইমনের স্বজনরা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে আগেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং এলাকায় মাদক কারবার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মতামত দিন