নিকুঞ্জ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান।
রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাজসজ্জা ও পরিবেশ উন্নয়নের নামে প্রায় ২৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে রাষ্ট্রের।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দুদক কার্যালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, নিকুঞ্জ লেক ড্রাইভ রোডের ৬ নম্বর প্লটে নির্মিত তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়িতে দায়িত্ব ছাড়ার পর ২০২৩ সালের এপ্রিলে পরিবারসহ উঠেন আবদুল হামিদ। ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে আশপাশের অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ কমিশনের হাতে আসে।
অভিযোগে বলা হয়—বাড়ির পাশে হাঁটার পথ বন্ধ করে নতুন করে ডেক তৈরি, ঝুলন্ত ব্রিজের মতো নান্দনিক কাঠামো নির্মাণ, খালের ধার জুড়ে আধুনিক ল্যাম্পপোস্ট বসানোসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই শেষে কমিশন গত ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করতে সম্মত হয়।
ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক আরও বলেন, দুদকের কাজ ব্যক্তির পদ-পদবি দেখার নয়; অভিযোগের সত্যতা ও তা কমিশনের আইনানুগ এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না—সেটাই প্রধান বিবেচ্য। কোনো অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে অনুসন্ধানেই যায় দুদক।
বাংলাদেশে এর আগেও সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান চলেছে—হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেই নজির রেখে গেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে শাস্তিও ভোগ করতে হয়েছিল।

মতামত দিন