পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সদস্যদের রায় ঘোষিত হবে আগামীকাল।
পূর্বাচলে একসঙ্গে ছয়টি প্লট বরাদ্দের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে তিনটির রায় ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে করা প্রধান মামলা, একই দিন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের পৃথক দুটি মামলার রায়ও আদালত জানাবে।
দুদকের আইনজীবীদের দাবি, আবেদন করার সময় রাজউকের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন শেখ হাসিনা। তাদের ব্যাখ্যায়, পরিবারের নামে ইতিমধ্যেই ধানমন্ডির সুধাসদনে একটি সরকারি প্লট ছিল। কিন্তু আবেদনপত্রের হলফনামায় এটি উল্লেখ করা হয়নি। আইনজীবী খান মোহাম্মদ মাইনুল হাসান লিপন বলেন, স্বামী প্রয়াত হওয়ার পর সেই সম্পত্তির মালিকানা শেখ হাসিনার কাছেই আসে—তাই তথ্য গোপন করে দ্বিতীয়বার আবেদন করা রাজউক বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।
তদন্তে দুদক জানায়, বরাদ্দ পাওয়া প্লটটি পূর্বাচলের কূটনৈতিক জোনের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কে—প্লট নম্বর ৯। সাধারণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজউক যে প্রচলিত ঘোষণাগুলো দেয়, এই বরাদ্দের সময় সেসব কিছুই ছিল না। ২০২২ সালে নীরবভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্লটটি, আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর জানুয়ারিতে মামলা করা হয়।
দুদকের বক্তব্য, আবেদন প্রক্রিয়ায় শুধু নিয়ম ভঙ্গই নয়—বরাদ্দ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও গৃহায়ণ–গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকেও প্রভাবিত করা হয়েছিল। এমনকি বরাদ্দের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সিনিয়র সচিব পুরবী গোলদার, কাজী ওয়াসিসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুর্নীতির এসব মামলার রায় নিয়ে দুদক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। আগামী ১ ডিসেম্বর শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলেও জানা গেছে।
মতামত দিন