রাজবাড়ীর কালুখালীতে সরকারি মূল্যের বাইরে সার বিক্রি, কৃষকের অভিযোগ।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় সরকারিভাবে ঠিক করা দামের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন—কোনও রশিদ বা ভাউচারও দেওয়া হয় না।
কৃষক ও স্থানীয়রা জানান, নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ডিলার তা মানছেন না; বস্তা ও কেজি সব পর্যায়ে বাড়তি টাকা তুলছেন তাঁরা। সরকারি মূল্যে সার চাইলে ডিলাররা ‘স্টক নেই’ বলে কথা বললেও, কেউ বেশি টাকা দিলেই সার সরবরাহ চলে আসে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
তাদের অভিমত, সময়মতো ও সঠিক দামে সার না পাওয়ায় ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; আর বেশি দামে কেনার ফলে আবাদে খরচ বাড়ছে। কিছু কৃষক বলছেন, এ সঙ্কট পুষিয়ে একদল কুচক্রী বিদেশ থেকে সার আমদানি করে কমিশন-ভিত্তিক ব্যবসা করছেন—ফলশ্রুতি হিসেবে স্থানীয় কারখানাগুলো ও সরকারি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বক্তারা সরকারের নিকট অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন; না হলে তারা ঢাকা-কলাপাড়া কিংবা সিলেট পথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ডিলারপক্ষ দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দামে বিক্রি করে না; মাঝেমাঝে মূল্যের পরিবর্তন বা বাইরে থেকে বেশি দামে কিনে আনা হলে তা খুচরা পর্যায়ে প্রতিফলিত হয়। তবে স্থানীয় বেশিরভাগ গোডাউনে সারের বস্তা স্তুপ অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে, যা বিতর্ক বাড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, কালুখালিতে মোট ৩১ জন সরকারি অনুমোদিত সার ডিলার রয়েছেন—বিসিআইসি ও বিএডিসি ছাড়াও ১৬ জন খুচরা সরবরাহকারী। তাতেও সরবরাহ ও বরাদ্দ বিভাজন যথাযথভাবে না হওয়ায় বাজারে সঙ্কট দেখা দিচ্ছে বলেই জানিয়েছে অফিস।
প্রাসঙ্গিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের ঘোষিত দরে টিএসপি, এমওপি, ইউরিয়া ও ডিএপি বস্তার দাম নির্দিষ্ট থাকলেও বাস্তবে বস্তা প্রতি ২০০–৫০০ টাকার অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে তা আরও বাড়ানো হচ্ছে—কৃষকের কথায় টিএসপিতে প্রতি বস্তা প্রায় ৪০০ টাকা, ইউরিয়ায় ৩০০ টাকা ও পটাশে প্রায় ২০০ টাকা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।
কালুখালী উপজেলা কৃষি অফিসার পূর্ণিমা হালদার জানান, বাইরের উৎস থেকে সার এনে বেশি দামে বিক্রি করা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দুই ডিলারকে প্রতিহত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে; এবং প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক কার্যক্রমও নেয়া হবে।

মতামত দিন