গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশে কিছু অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রচুর ছাড় দেখিয়ে টিকিট বিক্রি করার মাধ্যমে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
চলতি বছরের ২ আগস্ট হঠাৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ তাদের এমডি দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ১৫ অক্টোবর ‘ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ২০ অক্টোবর ‘ট্রাভেল বিজনেস পোর্টাল’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান একই কায়দায় গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়।
ভুক্তভোগী সাব-এজেন্টরা জানিয়েছেন, টিকিট কাটা যাত্রীদের ফ্লাইট এক সপ্তাহের মধ্যে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখন নিজের পকেট থেকে ৩০–৪০ শতাংশ খরচ করে তাদের রিইস্যু করতে হচ্ছে। এই টিকিটগুলো প্রক্রিয়ায় ছিল তিন থেকে চার হাত।
ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডি এম এ রশিদ শাহ সম্রাট দাবি করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পেছনে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, “টিকিটের দাম ৬ হাজার, ৭ হাজার টাকা নেওয়া হলে টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যেতে, কিন্তু কর্মকর্তারা অন্য ওটিএর সঙ্গে যোগসাজশে বেঈমানি করেছে।”
ট্রাভেল এজেন্সি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কার্যকর নীতিমালা নেই। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বিক্রির পর রিফান্ড বা রিইস্যু কেবল যাত্রীর অধিকার। কিন্তু গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই ওটিএগুলো টাকা রিফান্ড করতে পারে। সাবেক এজেন্ট ও খাত বিশেষজ্ঞ আবদুস সালাম আরেফ বলেন, “অতিরিক্ত ছাড় ও বিজ্ঞাপনের জন্য সরকারের তদারকি প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তি ও অনলাইন পদ্ধতিতে ব্যবসার ঝুঁকি এখনো সরকারের নজরে নেই। নীতিমালা তৈরি হলে এ ধরনের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।”
এর আগে ২০২৩ সালে ‘লেটস ফ্লাই’ এবং ২০২১ সালে ‘২৪ টিকিট ডটকম’ও গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

মতামত দিন