অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহীরের সম্পর্ক সম্পর্কে পরিবারের সবাই জানত।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তদন্ত ও সমালোচনা জোরদার হচ্ছে। পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে কোনো প্রফেশনাল কিলারের অংশ নেই; বরং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মাহীর রহমান।

সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্ষার পরিবারের সবাই জোবায়েদ ও মাহীরের সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত ছিলেন, যদিও মেয়ের মা মাহীরকে পছন্দ করতেন না। হত্যার সময় জোবায়েদকে হত্যার জন্য দুইটি ছুরি কিনে রাখা হয়েছিল, কিন্তু একটি ছুরি দিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাহীরের বন্ধু আইলানকে সহায়তার জন্য বলা হয়েছিল, তবে সে কোনো আঘাত করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন বলেন, "ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রিভুজ প্রেমের গল্প’ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জোবায়েদের চরিত্র হানির চেষ্টা বলে আমরা মনে করি।" তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন বর্ষার ফোন কলের লোগ, যেখানে হত্যার সময় জোবায়েদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, হত্যার সময় বাসার ভিতরে কোনো ধ্বস্তাধস্তি বা চিৎকারে আশপাশের কেউ হস্তক্ষেপ করেনি। জোবায়েদ হত্যার ঘটনায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক জিপু বলেন, "বর্ষা হত্যাকাণ্ডের মূল সূচনাকারী হিসেবে তদন্তে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এজাহারে ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের আশা করছি।"

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল দুপুরে শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। বিক্ষোভে পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জোবায়েদ হোসেন গত রোববার পুরান ঢাকার আরমানিটোলার রওশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষাকে পড়াতে গিয়েছিলেন। আনুমানিক বিকেল ৪:৪৫ মিনিটের দিকে তিনি ওই বাসার তিনতলায় সিঁড়িতে খুন হন।

মতামত দিন