সিরাজগঞ্জে রেস্টুরেন্টে উচ্চ স্বরে গান বাজিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার।
কামারখন্দ উপজেলার একটি রেস্টুরেন্টে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি নাইম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে র্যাব-১২-এর উপঅধিনায়ক মেজর মো.আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রথমে নাইম হোসেন কুমিল্লার তিতাস থানার জিয়ারকান্দি এলাকা থেকে র্যাবের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত নাইম হোসেন কামারখন্দের মো. রহমত আলীর ছেলে।
মেজর মো. আহসান হাবিব জানান, মামলার পর থেকেই আসামি পলাতক ছিল। যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কামারখন্দ থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী মাদ্রাসায় যায়। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি দোকানে কলম কিনতে বের হওয়ার সময় নাইম হোসেন তাকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় নাইম হোসেনের পাঁচ বন্ধু—মো. ইমরান (২১), আকাশ (২১), মো. আতিক (২৩), নাছিম উদ্দিন (২০) এবং নাজমুল হক নয়ন (২৩)—সহযোগিতা করে।
এজাহারে বলা হয়েছে, রেস্টুরেন্টের ভেতরে কিশোরীর চিৎকার বাইরে পৌঁছাতে না পারে সেজন্য উচ্চ স্বরে গান বাজানো হয়। বাইরে পাঁচ আসামি পাহারা দেয়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, “আমার মেয়ে মাদ্রাসায় গেছে, কিন্তু ঘরে ফেরেনি। পরে হঠাৎ ফোনে জানানো হয় সে অসুস্থ অবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিকে আছে। আমরা গিয়ে দেখি মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ। পরে তাকে এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।”
ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ২০ অক্টোবর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিন আসামি—মো. আকাশ, মো. আতিক ও মো. নাজমুল হক নয়ন—গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।

মতামত দিন