অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

তুমি না মরলে আমি মাহীরের হতে পারব না, জোবায়েদকে ছাত্রী বর্ষা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানিয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের মৃত্যু ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার সময় তিনি বাঁচার জন্য দোতলা থেকে তৃতীয় তলায় উঠার চেষ্টা করেছিলেন।

তৎক্ষণাৎ বর্ষা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জোবায়েদ সাহায্য চাইলেও বর্ষা বলেছিলেন, “তুমি না মরলে আমি মাহীরের হতে পারব না।” এরপরই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

ডিসি মল্লিক জানান, “মেয়েটি অত্যন্ত কৌশলী, দু’দিকেই সম্পর্ক বজায় রাখে। এটি একটি প্রেমের ত্রিভুজ, যা মিন্নি ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে।”

এর আগে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা ও মাহীরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।মাঝের সময়ে বর্ষা জোবায়েদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছুদিন পর মাহীরকে জানান যে জোবায়েদকে আর পছন্দ করেন না। এরপরই তারা পরিকল্পনা করেন জোবায়েদকে হত্যার।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ষা হত্যার পরিকল্পনা স্বীকার করেননি। পরে মাহীর ও বর্ষার মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যার পরিকল্পনা তারা ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেছিলেন। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জোবায়েদ হোসাইন ছিলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রবিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে। তৃতীয় তলায় উঠার পথে সিঁড়িতে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং জোবায়েদ উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। রাত ১১টার দিকে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয় এবং তার বাসা থেকে প্রটোকলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন জোবায়েদের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

মতামত দিন