অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ার শীর্ষ এজেন্ট লিপু গ্রেপ্তার, উদ্ধার মোবাইল-ল্যাপটপ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সাতক্ষীরা থেকে অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যতম প্রধান এজেন্ট মুর্শিদ আলম লিপুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার সহযোগীসহ মোট দুইজনকে আটক করা হয়।

অভিযানে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল খানপুর থেকে বাইপাসগামী খড়িবিলা মোড়ে অভিযান চালায়। সেখানে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তল্লাশির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ইসলাম ও রাজিয়া সুলতানার ছেলে মুর্শিদ আলম লিপু এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার খন্দকার পাড়ার মাসুদুল আলম ও লুবা ইয়াসমিন দম্পতির ছেলে মুছাঈদ আলম ওরফে ক্যামেল (৩০)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন।

পুলিশ জানায়, লিপুর বিরুদ্ধে আগেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রয়েছে। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর ডিএমপির পল্টন থানায় ওই মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণা রোধে সারা দেশে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘অনলাইন জুয়ার রাজধানী মেহেরপুর, হেডকোয়ার্টার রাশিয়া’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর থেকেই লিপু আত্মগোপনে চলে যান।

তদন্তে সিআইডি জানায়, তিনি একাধিক ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন সিম সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তার অবস্থান কখনো সাতক্ষীরা, কখনো মাগুরা, আবার কখনো ঢাকার বসুন্ধরায় শনাক্ত হয়।

দেশের শীর্ষ ১৯ অনলাইন জুয়া এজেন্টের বিরুদ্ধে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করেছে—এর মধ্যে মুর্শিদ আলম লিপু শীর্ষস্থানে রয়েছেন।


মতামত দিন