অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, দুই মামলায় প্রায় হাজার আসামি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, টিকিট কেলেঙ্কারি ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় নাম এসেছে দুজনের, পাশাপাশি অজ্ঞাত প্রায় এক হাজার দর্শককে আসামি করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামে সহিংসতার ঘটনায় জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সেখানে টিকিট ইজারাদার ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়াত হোসাইন মুন্নাকে নামীয় আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে।

অপরদিকে, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে সদর থানা পুলিশ। এতে অজ্ঞাত প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

এর আগে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহিনও উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গণপূর্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হয়েছিল। এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।”

জেলা পুলিশ সুপার জানান, খেলায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি পুলিশের হাতে ছিল না। তবু র‍্যাব, আনসার ও পুলিশের সদস্যরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নির্দেশনা ছিল যাতে প্রাণঘাতী কোনো ঘটনা না ঘটে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে উসকানিদাতা ও সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি টিকিট কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে উশৃঙ্খল দর্শকদের তাণ্ডবে খেলা পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় ও গ্যালারিতে ব্যাপক ভাঙচুর হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন।

মতামত দিন