অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে একের পর এক নানা অপকর্ম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা তৌহিদ আফ্রিদির গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অপকর্মের তথ্য একে একে প্রকাশ্যে আসছে। অনেকে মুখ খুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন তার অসংগতিপূর্ণ আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিজ্ঞতা।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল শহরের বাংলাবাজার এলাকায় সিআইডির বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েন আফ্রিদি। গ্রেফতারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তার সঙ্গে জড়িত নানা ভিডিও ও অভিযোগ। সাবেক ডিবি প্রধান হারুনকে নিয়ে তৈরি তার ব্লগ ছাড়াও, ধীরে ধীরে সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রত্যয় হিরণ এ ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন—
“দিন শেষে আল্লাহ সবাইকে নিজের জায়গা দেখিয়ে দেন।”

হিরণের সেই পোস্ট শেয়ার করে স্বপন আহমেদ মন্তব্য করেন,
“শুধু আমাদের দুজনের সঙ্গেই নয়, ২০–৩০ জন মানুষের সঙ্গেই আফ্রিদি এভাবে আচরণ করেছে। যাদের  সঙ্গে একসঙ্গে খেয়েছে, তাদের সঙ্গেও।”

অন্যদিকে, সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তা দেন কনটেন্ট নির্মাতা সায়েম। তিনি জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে আফ্রিদিকে নিয়ে কনটেন্ট করার কারণে ডিবি অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। হাত-পা-চোখ বেঁধে মারধর শেষে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়।সায়েমের দাবি, পুরো সময় ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন আফ্রিদি নিজেই।

তিনি আরও বলেন, “দেশে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, আফ্রিদির প্রভাব কোনোদিনও কমবে না। তার ক্ষমতা আগের মতোই বহাল থাকবে।”

অভিযানকালে গ্রেফতারের সময় আফ্রিদিকে বলতে শোনা যায়,
“আমি পালাবো না। কোরআনের কসম, আমি ওমরা করে এসেছি। আমি কেমন মানুষ, সবাই জানে।”

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের রাতেই তাকে ঢাকায় আনা হয়। সোমবার আদালতে হাজির করে সিআইডি সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায়  তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দ্বিতীয় আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৃতীয় আসামি পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ ছাড়া মামলার ২২ নম্বর আসামি আফ্রিদির বাবা, মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গত ১৭ আগস্ট গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

মতামত দিন