ভারতে গ্রেপ্তার আবু সাঈদ হত্যা মামলার অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর চেকপোস্টে প্রবেশের চেষ্টা করেন তিনি। কাকডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, বিএসএফ তার কাগজপত্র যাচাই করে জানতে পারে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি ভারতের স্বরূপনগর থানায় আছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হাবিবুর রহমান বলেন,আরিফুজ্জামানের বাড়ি নীলফামারীতে। গত বছর ৫ আগস্ট তাকে রংপুর থেকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এপিবিএনে বদলি করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এর আগে, ১৪ আগস্ট বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া রংপুরের তাজহাট ও কোতোয়ালি থানায় করা আরও কয়েকটি মামলার বিভিন্ন আসামি তালিকায় তার নাম রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সবচেয়ে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেছিলেন এই কর্মকর্তা। ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে শিক্ষার্থীদের মিছিল যাওয়ার সময় তিনি নিজে লাঠিচার্জের নেতৃত্ব দেন এবং গুলিচালনায়ও সরাসরি জড়িত ছিলেন।
দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন, আরিফ ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়েছেন। এখন দেশটির আইনি প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রণালয় টু মন্ত্রণালয় যোগাযোগের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত আসবে। বাংলাদেশ পুলিশ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় নিহত কলা ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন হত্যা মামলায় বাদীর কাছ থেকে কৌশলে হলফনামা আদায় করে নাম বাদ দেন আরিফ। আবার আহত শিক্ষার্থীদের বয়ানেও তার আগ্রাসী ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।

মতামত দিন