অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলন দমনে ‘রাজাকারদের মতো ফাঁসির নির্দেশ’ দেন: শেখ হাসিনা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত সোমবার শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার। মামলার চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁর সূচনা বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখের টেলিফোন আলাপের অডিও রেকর্ড (লিখিত রূপে) তুলে ধরেন।

রেকর্ডে দেখা যায়, আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা ছাত্রদের ওপর কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ‘রাজাকারের ফাঁসি দেওয়ার মতো’ আন্দোলনকারীদেরও ফাঁসি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি মাকসুদ কামালকে সতর্ক করেন, ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হলে চলবে না’ এবং পুলিশ ও বিজিবি নিয়ন্ত্রণে কঠোর থাকতে বলেন।

অপরদিকে, মাকসুদ কামাল জানান, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে হাজার হাজার ছাত্র একত্রিত হচ্ছিলেন এবং নিজেও ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর এই কথোপকথনের পাশাপাশি ডিএমপি তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানের ১৮  জুলাই ২০২৩ এর বেতার বার্তার অডিও অংশও ট্রাইব্যুনালে শুনিয়ে জানান, সেখানে তিনি পুলিশের সদস্যদের গুলি চালানোর স্বাধীনতা ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ দিচ্ছেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, ওই ঘটনায় পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০-৪৫ সদস্য চানখাঁরপুল এলাকায় মোতায়েন হয়ে পরিকল্পিতভাবে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ ছয়জনের মধ্যে একজন ছিলেন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শাহারিয়ার খান আনাস।

আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান সাক্ষ্য প্রদানকালে জানান, তাঁর ছেলে আন্দোলনে অংশ নিতে বের হওয়ার আগে একটি চিঠি লিখেছিল যেখানে সে বলেছিল, ‘আমি যদি বেঁচে না ফিরি, গর্বিত হবেন মা।’ তিনি বলেন, ছেলের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়নি এবং ‘শহীদ মর্যাদায়’ রক্তাক্ত কাপড়ে দাফন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে আসামি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। মামলার পলাতক আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

মতামত দিন