অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদ কেন্দ্রিক সহিংসতায় উত্তাল পাবনার বেড়া, ১৪৪ ধারা জারি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পাবনার বেড়া উপজেলায় মসজিদের বারান্দা নির্মাণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবরে রোববার (২৭ জুলাই) ভোর থেকে অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  আনতে প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোরশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে নতুন একটি মসজিদের বারান্দা নির্মাণকে  কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে এ সংঘর্ষে হাদিস নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে ওই গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে রোববার সকাল ১০টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পুরো তারাপুর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, এ সময় সব ধরনের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, লাঠিসোটা নিয়ে চলাফেরা, পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত এবং সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাপুর গ্রামে কয়েক বছর আগে ধর্মীয় মতবিরোধের জেরে দুটি পৃথক মসজিদ গড়ে ওঠে। একটি পক্ষ পুরোনো মসজিদে কিয়াম পড়া নিষিদ্ধ মনে করলেও অপর পক্ষ তা সমর্থন করে এবং আলাদা মসজিদ নির্মাণ করে। নতুন মসজিদের সম্প্রসারণ কাজ—বিশেষ করে বারান্দা নির্মাণ—নিয়ে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার সকালে বারান্দা নির্মাণকাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ তা বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩০ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শনিবার রাতে একজনের মৃত্যুর খবরে পরিস্থিতি আরও  খারাপ হয়ে যায়। দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী এলাকায় টহল  জোরদার করেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন