জমি ও পারিবারিক কলহে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী গ্রেপ্তার।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মাধবপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মনিরুল ইসলাম (৫০) নামে এক দিনমজুরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত স্ত্রী পাপিয়া খাতুনকে আলমডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে নিজ ঘরে মনিরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।
জীবননগর থানার ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, পারিবারিক বিরোধ এবং অর্থসংক্রান্ত জটিলতা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের ভাই জহির উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, জমির রেজিস্ট্রেশন, পরকীয়ার অভিযোগ এবং ছেলের বিদেশ যাত্রার খরচ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে এ নিয়ে মনিরুল ও পাপিয়ার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাপিয়া হাঁসুয়া দিয়ে স্বামীর গলায় কোপ দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর পাপিয়া পালিয়ে আলমডাঙ্গা থানার বাসবাড়িয়া এলাকায় খালার বাড়িতে আশ্রয় নেন। রোববার ভোরে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের ছেলে রাজুও পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে কলহ লেগে ছিল। ঘটনার পর ছেলে রাজু পাশের বাসিন্দার কাছে ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর জানতে চান—এটি তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাঁসুয়া ও একটি কুড়াল জব্দ করেছে। পাপিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পলাতক ছেলেকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
মতামত দিন