রায়পুরার চরাঞ্চলে গোলাগুলির পর শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র।
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে চলমান সংঘাতের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল মিয়া। তার কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একনলা বন্দুক, পিস্তলের গুলি, রাইফেলের গুলি, শটগানের কার্তুজ, বিদেশি মুদ্রা, মোবাইল, নগদ অর্থ এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
সোহেল মিয়া (৪০) উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি হত্যা ও দুটি অস্ত্র মামলা অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি সায়দাবাদে গৃহবধূ শান্তা ইসলামকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফের আলোচনায় আসেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শ্রীনগর ইউনিয়নের বালুরচর ও সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হানিফ মাস্টার ও এরশাদ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার ভোরে বালুরচর থেকে আসা এরশাদ গ্রুপের সদস্যরা সায়দাবাদ গ্রামে হামলা চালায়। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোমেনা বেগম নামে এক নারী নিহত হন। আহত হন আরও ছয়জন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী পুরো এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালায়। এর অংশ হিসেবেই সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
স্থানীয়দের মতে, রায়পুরার চরাঞ্চলে অস্ত্রের মহড়া, দখল ও প্রতিশোধের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলমান। তবে এবার কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে অনেকের প্রত্যাশা।

মতামত দিন