অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গত বছরের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেয়।

অভিযুক্ত অন্য দুইজন হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনজনের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিন আসামির মধ্যে একমাত্র চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে কারাগারে আটক এবং তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে রাজস্বাক্ষী হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন।

এর আগে গত ১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়, শেখ হাসিনা ও কামালকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। ১৭ জুন তা প্রকাশও করা হয়। কিন্তু সাতদিন সময় পেরিয়ে গেলেও তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি।

পরবর্তীতে ১ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ জুলাই বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলার বিচার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে, যা দেশের আইনি ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

মতামত দিন