স্ত্রীর কিডনিতে জীবন ফিরে পেয়ে পরকীয়ায় জড়ালেন স্বামী।
ঘটনাটি সাভার সদর ইউনিয়নের কলমা এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির জীবনে বড়সড় পরিবর্তন আসে ২০০৮ সালে। অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক। ধরা পড়ে তার দুটি কিডনিই বিকল। শুরু হয় ভারতে চিকিৎসার যাত্রা, চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন কিডনি প্রতিস্থাপনের। তখন স্ত্রী টুনি নিজের একটি কিডনি স্বামীর জীবন রক্ষায় দান করেন। তার চিকিৎসা খরচ চালাতে টুনি বিউটি পার্লার ও বুটিকস ব্যবসা শুরু করেন। আয়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ খরচ হতো তারেকের চিকিৎসায়।
২০১৯ সালের অক্টোবরে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরই পাল্টে যেতে শুরু করে তারেকের আচরণ। স্ত্রী টুনির অভিযোগ, স্বামী একপর্যায়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং নিয়মিত তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত টুনিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে এক ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
টুনি জানান, কিডনি দেওয়ার পর নিজের শরীরেও নানা জটিলতা দেখা দিলেও স্বামীর প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করেননি তিনি। কিন্তু তারেক দিনের পর দিন অবহেলা, নির্যাতন আর অর্থনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছেন। টুনি প্রথমে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও পরে আদালতের শরণাপন্ন হন।
টুনির মা বলেন, "আমার পেনশনের সব টাকায় তার চিকিৎসা হয়েছে। অথচ সে এখন আমার মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই।"
টুনির আইনজীবী নেহার ফারুক বলেন, "এখানে কেবল নারী নির্যাতনই নয়, অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে। প্রতারণা ও প্রতিকৃতজ্ঞতার নজির স্থাপন করেছেন তারেক। চার্জশিট হাতে পেলেই আমরা তার জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করবো।"
অভিযুক্ত তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তারেকের অবস্থানও অজ্ঞাত। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

মতামত দিন