অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার গুদাম থেকে ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভায় একটি গুদাম থেকে ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। অভিযুক্ত গুদামটির মালিক কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. খোকন আহমেদ, যিনি বর্তমানে পলাতক।

শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর একটি দল পৌরশহরের বাদে আঠারো বাড়ি এলাকায় মেসার্স  নাহার ট্রেডার্স নামে একটি গুদামে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে খোকনের লোকজন ভ্যানে করে  চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটি আটক করে পুনরায় গুদামের সামনে নিয়ে আসে সেনা সদস্যরা।  পরে গুদাম ও ভ্যান মিলে মোট ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি ওজনের ৩০৪ বস্তা চাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

মদন অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জামিউল ইসলাম সাকিব বলেন, “চালগুলো ঈদ উপলক্ষে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের দাবি, বিতরণ শেষে বেঁচে যাওয়া চাল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তারা কিনেছেন। প্রশ্ন হলো— অনুমতি থাকলে এই চাল গোপনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কেন?”

চালগুলোর মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পাটের বস্তা, টিসিবির চিহ্নিত বস্তা এবং বিভিন্ন রঙের প্লাস্টিকের বস্তাও ছিল। জব্দকৃত চাল বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে।

তবে অভিযানে খোকন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না। তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে এখনও কোনো মামলা না হওয়া আইন প্রয়োগে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়। কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “চালগুলো প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার ছুটিতে থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, “আমি আজ রাতেই কর্মস্থলে ফিরছি। ফিরে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সেনাবাহিনী অভিযানে জড়িত আরও দুজনকে তাৎক্ষণিক আটক করলেও পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক।

মতামত দিন