কুর্মিটোলা হাই স্কুলকে ঘিরে চাঁদাবাজ চক্রের অপতৎপরতা।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা এই গোষ্ঠী স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন অপপ্রচারে নেমেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি চুরির ঘটনায় চক্রটির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই খিলক্ষেত থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, “গত ৫ আগস্টের একটি প্রশাসনিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই স্কুলের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ‘ট্যাগ’ দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ‘স্বৈরাচারের দোসর’ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে সম্মানহানির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহজাহান ও অভিভাবক প্রতিনিধি তাসলিমা আক্তার ইতির প্রতি অভিভাবকদের আস্থার কথা জানিয়ে একজন বলেন, “স্কুলের স্বার্থে তাঁরা নিরপেক্ষ ও নিষ্ঠাবানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত করেছে।”
প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন,“কুর্মিটোলা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু একটি স্কুল নয়, এটি খিলক্ষেতের পরিচয় ও গর্ব। এখানে তোলাবাজদের নাক গলানো অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা খাতে চলমান স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা 'পতিত স্বৈরাচারের ছায়া' ফিরিয়ে আনছে কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন সচেতন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের দাবি,দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে অপশক্তির প্রভাবমুক্ত রাখা হোক এবং কুর্মিটোলা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ তার স্বকীয় মর্যাদা ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।

মতামত দিন