আলফাডাঙ্গায় কথিত যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার ৭ তরুণ।
ঘটনা শুরু হয় ৯ জুন বিকেলে, স্থানীয় কাঞ্চন একাডেমি মাঠের পাশে একটি মুদি দোকানে। দোকানদার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শাহেদ নামে এক যুবক নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে তার দোকানে চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় শাহেদ আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেন এবং দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে চলে যান।
চিৎকার শুনে মাঠে খেলতে থাকা কয়েকজন তরুণ দৌড়ে এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। পরদিন শাহেদ ও তার লোকজন ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা গার্মেন্টসকর্মী কাওসার খানকে প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রফিকুল ও কাওসার থানায় অভিযোগ দিলেও ১১ জুন রাতে কামারগ্রামে ঈদের মিলনমেলা চলাকালে পুলিশ হঠাৎ অভিযান চালিয়ে সাতজন তরুণকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়।
আটক যুবকদের পরিবার বলছে, “ওরা কেউ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কেউ ঢাকায় চাকরি করে, কেউ দিনমজুরি করে, কেউ আবার বিদেশ ফেরত। ঈদে ঘরে এসেছে মাত্র, হঠাৎ তাদের নাম মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হলো!”
যুবদলের স্থানীয় নেতৃত্বও দায় নিতে নারাজ। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা জানান, “আমাদের কোনো ইউনিয়ন কমিটি নেই। শাহেদ নামে কাউকে আমরা চিনি না। কেউ সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “ওই রাতে আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কিছু তথ্য যাচাই করতে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মামলার প্রেক্ষিতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি। “তাদের কোনো পদ আছে কি না তা জানি না,” বলেন ওসি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য—“অপরাধীর বিরুদ্ধে কথা বললে যদি গ্রেপ্তার হতে হয়, তাহলে বিচার চাওয়ার সাহস কার থাকবে?”
মতামত দিন