অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় সেনা অভিযানে চরমপন্থি নেতা লিপটন গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্রের ভাণ্ডার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুষ্টিয়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ চরমপন্থি নেতা জাহাঙ্গীর কবির লিপটন (৪৮) ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দুর্বাচারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

এর আগে ভোর ৪টা থেকেই অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। দুপুরে কুষ্টিয়া সেনা ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ক্যাম্পের টু-আইসি মেজর মোস্তফা জামান। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই লিপটন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন সহযোগী হলেন—দুর্বাচারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম এল্টুর ছেলে রাকিব (৩৬),জহির ইসলামের ছেলে লিটন (২৬), ও আব্দুল মজিদের ছেলে সনেট হাসান (৩৫)।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—৬টি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগজিন,৩৩ রাউন্ড ৯ এমএম গুলি, ৫০ রাউন্ড ৭.৬২ এমএম গুলি, ১২ বোরের ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ, একটি জার্মান এসএলএফ ইম্পারেটর লং ব্যারেল শটগান, ১০টি ধারালো অস্ত্র, ৬টি বল্লম, ৮টি বেতের ঢাল, ৩টি ক্লিনিং কিট এবং একটি পিস্তল কভার।

সেনাবাহিনীর বরাতে জানানো হয়, লিপটন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও মারামারিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও সন্ত্রাস মামলাও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লিপটন গণমুক্তিফৌজের সাবেক শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং ২০১২ সালে ডিএসবির চরমপন্থি তালিকায় তার নাম উঠে আসে। পরে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠতায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন। তবে এলাকায় ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স’ পরিচয়ে দাপট বজায় রাখতেন তিনি।

লিপটনের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দুর্বাচারা গ্রামে আনন্দ মিছিল করে সাধারণ মানুষ তার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। স্থানীয়দের ভাষ্যে, বহুদিন ধরেই লিপটন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিলেন, এবার তার গ্রেপ্তারে তারা খানিকটা মুক্তির স্বাদ পেলেন।

মতামত দিন