অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যুবককে হত্যা, মূল আসামি গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাগমারায় হত্যা মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার যুবকের নাম হাবিব আলী (২৬)।
তিনি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে।

রোববার (১ জুন) দিবাগত রাতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৫ এর একটি দল। এরপর সোমবার (২ জুন) দুপুরে হাবিবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৫ এর উপঅধিনায়ক মেজর আসিফ আল রাজেক।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল বাগমারা উপজেলার রনশিবাড়ি গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে  আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিরুল নামে এক যুবক ধারালো ছুরি দিয়ে রাজ্জাক প্রামাণিককে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন আমিরুলকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু থানা হেফাজতে নেওয়ার সময় প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুলিশকে ঘিরে ফেলে। তারা লাঠি ও ইট নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং আমিরুলকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর আসামিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় হাবিব আলীকে রোববার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাকে পরবর্তীতে বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত ২০ মে চট্টগ্রাম থেকে আরও দুই অভিযুক্ত—খোরশেদ আলম (৪৫) ও ভুটু প্রামাণিককে (৪২)—গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, “র‌্যাব হাবিব আলীকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

বাগমারার এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশের ওপর গণহামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মতামত দিন